ডিজিটাল উদ্দেশ্য
যদি আপনি মনে করেন যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আপনি যোগাযোগে বিশেষ পারদর্শী নন, অথবা চিন্তিত থাকেন এই ভেবে যে পাছে আপনার কথায় কেউ মনে আঘাত পায় তাহলে সবথেকে ভালো বুদ্ধি হলো তাকে একটা চিঠি বা ই-মেইল লেখা। আপনি যদি এমন একটা চিঠি লিখতে পারেন যা বোধগম্য এবং করুণাময় তাহলে চিঠি লেখাকালীন সময়টায় আপনি নিজের মাঝে পুষ্টি/এনার্জি সরবরাহ করছেন। আপনার লেখা প্রতিটা শব্দ যার উদ্দেশ্যে লেখা তার মাঝেও পুষ্টি/এনার্জি সঞ্চারিত করবে যদিও প্রথমে তা আপনার জন্যই কার্যকর। কেননা অপর মানুষটি তখনো চিঠি বা মেইল পাননি। কিন্তু লেখাকালীন সময়টায় আপনি নিজেকে লালন করছেন। কারণ আপনি চিঠিতে যা লিখছেন তা গভীর উপলব্ধির সাথে করুণা ছোঁয়ায় সমৃদ্ধ।
এই চর্চার শুরুতে, বিশেষ করে লেখার মাধ্যমেই আপনার জন্য যোগাযোগের স্থির চিত্তের প্রক্রিয়াটা সহজ হতে পারে। এভাবে লেখা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আমরা ই-মেইল করতে পারি, টেক্সট মেসেজ দিতে পারি এবং আমরা ফোনেও কথা বলতে পারি। আর ঠিক সেই সময়গুলোতে স্থির চিত্তে যোগাযোগের চর্চা করতে পারি। আমাদের বার্তার মাঝে যদি সমানুভূতি এবং করুণায় সমন্বয় প্রতিফলিত হয় তবে বার্তার প্রাপকের ভয় এবং ক্রোধকে আমরা দূর করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারি। তাই এরপর থেকে যখন ফোনে কথা বলবেন তখন যন্ত্রটির দিকে একবার ভালো করে তাকিয়ে নিবেন এবং নিজেকে বলবেন, এর উদ্দেশ্য হলো করুণাময় যোগাযোগের জন্য আপনার নিজেকে সাহায্য করা।
সাধারণত টেক্সট মেসেজ বা মেইল লেখার সময় আমরা খুব তাড়াহুড়ো করি। লেখা শেষ করা মাত্রই আমরা সেন্ড বোতাম চেপে দেই এবং লেখাগুলো তৎক্ষণাৎ হারিয়ে যায়। কিন্তু এই তাড়াহুড়োর খুব দরকার আছে কি? সবসময় আমাদের একটা করে দম নেওয়া এবং দম ছাড়ার সময়টুকু কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। হোক তা ফোন ধরার আগে কিংবা একটা টেক্সট মেসেজ বা মেইল পাঠানোর আগে। যদি আমরা তা করি, তাহলে করুণাময় যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে আমাদের সম্ভাবনা আরো বৃদ্ধি পাবে।
বাড়ি ফেরা
যখন স্থির চিত্তে আমরা জাগরণের চর্চা শুরু করি, তখন আমরা মূলত নিজেদের ভিতরে যে বাড়ি সেখানে ফিরে আসার চর্চা করি। নিজের এই ঘর হলো সেই জায়গা যেখানে একাকীত্ব উবে যায়। যখন আমরা এই বাড়িতে থাকি, আমরা উষ্ণতা অনুভব করি, স্বস্তি টের পাই, নিরাপদ বোধ করি, পরিপূর্ণ বোধ করি। লম্বা সময় ধরে আমরা আমাদের এই বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলাম এবং আমাদের বাড়িটি অযত্নে পড়েছিলো।
কিন্তু বাড়িতে ফিরে আসার পথটি খুব দীর্ঘ নয়। বাড়ি আমাদের নিজের মাঝেই আছে। বাড়িতে যাওয়ার শর্ত হলো কেবল বসে যেতে হবে এবং নিজ সত্তার সাথে থাকতে হবে। যেমন অবস্থায় আপনি আছেন তাকে ঠিক তেমন ভাবে গ্রহণ করতে হবে। হয়তো বাড়ি খুব এলোমেলো হয়ে আছে, কিন্তু আমরা সেটা গ্রহণ করে নিবো। কারণ আমরা জানি যে আমরা দীর্ঘকাল আগে বাড়ি ছেড়ে গিয়েছি। তাহলে এখন আমরা বাড়িতে এলাম। আমাদের এই দম নেওয়া এবং দম ছাড়ার সাথে, আমাদের স্থির চিত্তে শ্বাস নেওয়ার সাথে আমরা আমাদের এলোমেলো ঘরটাকে এখন গোছাতে আরম্ভ করতে পারি।

















