কোভিডের নিষেধাজ্ঞার পর কাবার আঙিনা উন্মুক্ত হয়েছে বেশিদিন হয়নি তখনো। মানুষের উপচে পড়া ভিড়! তার ওপর ডিসেম্বর মাস, আরব-আকাশে সূর্যতাপ অতোটা নির্দয় থাকে না। সবমিলিয়ে রুদ্ধশ্বাস ভিড়!
মাহরামবিহীন ওমরার্থী আমরা দুজন নারী। শ্রদ্ধেয় তাপস দত্ত দাদা এতো সুন্দর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, কোনো বেগই পেতে হয়নি আমাদের!
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সাফা-মারওয়ায় স্বল্প গতির দৌড়ে কষ্ট অনুভূত হয়নি কোনো।
পাঁজরের হাড় ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে হজরে আসওয়াদ চুম্বন করতে গিয়ে। খুব ইচ্ছে ছিল কাছ থেকে পাথরটি দেখার, স্পর্শ করার চাওয়া পূর্ণ হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।

নবিজির জন্মস্থান বলে উল্লেখিত ঘরের দরজায় গাল থেকে বসে থেকেছি ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অদ্ভুত অনুভূতি!
হেরা গুহায় ঢুকে আমাকে অভিভূত করে রেখেছে একটি ভাবনা!
এখন ওঠার জন্য সিঁড়ি কাটা আছে।
দেড় হাজার বছর আগে তো তা ছিল না! পাথর বেয়ে বেয়ে মা খাদিজা খাবার নিয়ে এখানে কীভাবে উঠতেন! কতটা নিবেদিত প্রাণ হলে প্রতিদিন কষ্টসাধ্য এই কাজটি করতে পেরেছেন! ঘরে ছিলেন জগতের শ্রেষ্ঠ স্ত্রী বিবি খাদিজা(রা.); বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মসজিদ কাবাও ছিলো পাশে। তারপরও দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তিনি কাবা শরিফ থেকে ২মাইল দূরে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ১হাজার ফুট উচ্চতায় এসে ধ্যান করতেন! তার মানে নীরব, একাকী সাধনা কতোটা প্রয়োজন! দীর্ঘদিন ধরে নবিজি এখানে ধ্যান মগ্ন থাকতেন ।
তিনি যদি আমাদের প্রিয় হন, অনুসরণীয় হন, আদর্শ হন, তাহলে আমাদের জীবনে ধ্যানের চর্চা কোথায়?! সেটা নেই কেন?! কে / কারা কোন উদ্দেশ্যে ধ্যানের বিষয়টাকে সরিয়ে দিয়েছে?!
এমন অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিলো মনে!
মদিনায় গিয়ে মন শীতল হয়ে গেছে। মক্কাকে মনে হয়েছে কাবাকেন্দ্রিক এক বিশাল বাণিজ্যকেন্দ্র! সেখানে মোহাম্মদ (সা.) গৌণ!

মক্কায় উগ্রতা আছে, মদিনায় আছে শীতলতা।
আবু জেহেলের বাড়ি এখন গণ শৌচাগার। এখানেও প্রশ্ন: আবু জেহেল কি কেবল একজন ব্যক্তি? নাকি একটি অবস্থা, একটি মানসিক স্তর, যে স্তরে অবস্থানকারী অসংখ্য আবু জাহেল চারপাশে বিরাজমান!
এই প্রশ্নের উদয় এবং উত্তর পরম শ্রদ্ধেয় হিলালুজ্জামান হেলাল ভাইয়ের গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘কোরানে মানুষ তত্ত্ব’ বইয়ে অত্যন্ত সুন্দর করে দেওয়া আছে। তর্ক করার জন্য হলেও বইটি পড়তে পারেন আগ্রহীরা।

















