গুর্জিয়েফের সাথে কথোকপথন: মানবীয় জীবনের যান্ত্রিকতা ও পরিবর্তন

Views from the Real World এই বইটি মূলত George Ivanovich Gurdjieff-এর বক্তৃতা, আলোচনা ও প্রশ্নোত্তরের সংকলন। এখানে মানুষের চেতনা, আত্মজ্ঞান, যান্ত্রিক জীবনধারা এবং আত্ম-উন্নয়নের পথ নিয়ে গভীর আধ্যাত্মিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বইটির মূল ধারণা হলো—মানুষ সচেতন নয়, বরং “যান্ত্রিকভাবে” জীবন যাপন করে। নিজের ভিতরের বহুসত্তা (multiple ‘I’) বুঝে, পর্যবেক্ষণ করে, ধীরে ধীরে উচ্চতর চেতনার দিকে অগ্রসর হওয়াই এই শিক্ষার উদ্দেশ্য। এটি সরল কোনো ধর্মীয় বই নয়; বরং আত্ম-অনুসন্ধান ও বাস্তব আধ্যাত্মিক অনুশীলনের একটি গাইড।

George Ivanovich Gurdjieff

গুর্জিয়েফ ছিলেন একজন আর্মেনীয়-গ্রিক আধ্যাত্মিক গুরু, দার্শনিক ও শিক্ষক (১৮৬৬–১৯৪৯)। তিনি “Fourth Way” বা চতুর্থ পথের ধারণা দেন—যেখানে দৈনন্দিন জীবনযাপন করেই আত্ম-উন্নয়ন সম্ভব, আলাদা সন্ন্যাস বা নির্জনতা ছাড়াই। তার শিক্ষা মানুষের ভিতরের ঘুমন্ত অবস্থাকে জাগ্রত করার উপর জোর দেয়। তিনি বিশ্বাস করতেন—সচেতনতা (consciousness) বাড়ানো এবং নিজের উপর কাজ (self-work) করাই মানুষের প্রকৃত বিকাশের পথ।


এই বইটি শুধু পড়ার জন্য নয়—নিজেকে জানার, নিজের ভেতরের সত্য খুঁজে পাওয়ার একটি “অভ্যন্তরীণ যাত্রা”-র সূচনা। Glimpses of Truth হলো ১৯১৪ সালে মস্কোর একজন শিষ্য কর্তৃক লেখা গুর্জিয়েফের সঙ্গে একটি কথোপকথনের বিবরণ। P. D. Ouspensky তাঁর In Search of the Miraculous বইয়ে এই লেখাটির উল্লেখ করেছেন। এটি সেই সময় গুর্জিয়েফ যে ধারাবাহিক প্রবন্ধগুলোর পরিকল্পনা করেছিলেন, তার প্রথম—এবং সম্ভবত একমাত্র—উদাহরণ। তবে এর লেখক কে, তা জানা যায় না।

এই আলোচনাগুলোকে তুলনা করে পুনরায় বিন্যস্ত করা হয়েছে Madame Thomas de Hartmann-এর সহায়তায়। তিনি ১৯১৭ সালে এসেনতুকিতে (Essentuki) এই সমস্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং তাই এগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে পেরেছিলেন। দেখা যাবে, এই আলোচনার কয়েকটি অংশ—যেমন “For an exact study,” “To all my questions” এবং “The two rivers” দিয়ে শুরু হওয়া অংশগুলো—আসলে সেই উপাদানেরই প্রকাশ, যা গুর্জিয়েফ পরে সামান্য পরিবর্তিত রূপে ব্যবহার করেছিলেন তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Beelzebub’s Tales to His Grandson-এর শেষ অধ্যায় লেখার সময়।

কিছু নীতিবাক্য (Aphorisms) এর আগে প্রিয়োরে (Prieuré)-তে জীবনযাপনের বিবরণে প্রকাশিত হয়েছিল। এগুলো একটি বিশেষ বর্ণমালায় লেখা ছিল, যা কেবল শিষ্যদেরই জানা ছিল, এবং যেখানে তার আলোচনা হতো সেই স্টাডি হাউসের দেয়ালের উপরে সেগুলো খোদাই করা ছিল।

এই কথোপকথনের পর্বগুলো মূলত Views from the Real World এই বইটির মাঝে থাকা প্রশ্নোত্তর অংশ। এই অংশগুলো পাঠককে বিষয়বস্তু সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা না দিলেও তার মগ্নচৈতন্যে শিষ বাজাবে বলে আমার মনে হয়েছে। এবং এখান থেকে পাঠকের পরবর্তী পাঠ অন্বেষণ জারি থাকবে সে আশা থেকেই এই অংশগুলোর ধারাবাহিক অনুবাদ করার প্রয়াস। দয়াল চাইলে পরবর্তীতে সম্পূর্ণ বইটা অনুবাদ হবে বা হবে না। তবে পাঠের পর পাঠকের/সাধকের হৃদয়ে সামান্যতম অনুরণন হলেই আমার কাজ সার্থক হয়েছে বলে মনে করবো। জয় হোক!  

লন্ডন, ১৯২২

মানুষ একক কোনো সত্তা নয়; বরং অসংখ্য ছোট ছোট সত্তার সমষ্টি। আমরা সাধারণত নিজেদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে “আমি” শব্দটি ব্যবহার করি—বলতে অভ্যস্ত, “আমি এটা করেছি”, “আমি এটা ভাবি”, “আমি এটা করতে চাই”—কিন্তু বাস্তবে এই একক ‘আমি’ বলে কিছু নেই। আমাদের প্রত্যেকের ভেতরে শত শত, হাজার হাজার ছোট ছোট ‘আমি’ রয়েছে। আমরা নিজের ভেতরেই বিভক্ত, অথচ এই বহুসত্তার সত্যটি আমরা বুঝতে পারি না, যতক্ষণ না আমরা সচেতনভাবে নিজের ওপর পর্যবেক্ষণ ও অধ্যয়ন করি।

এক মুহূর্তে এক ‘আমি’ কাজ করে, পরের মুহূর্তে অন্য আরেক ‘আমি’ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই ভিন্ন ভিন্ন ‘আমি’-এর মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকার কারণেই আমাদের জীবন ও কাজ কখনো সুষম হয় না। আমরা আমাদের শক্তি ও সামর্থ্যের খুব সামান্য অংশ ব্যবহার করে বাঁচি, কারণ আমরা বুঝতে পারি না যে আমরা অনেকটাই যন্ত্রের মতো কাজ করি। নিজের এই ‘যন্ত্রসত্তা’র প্রকৃতি ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে আমাদের কোনো সচেতন জ্ঞান নেই।

বাস্তবে আমরা এক ধরনের যন্ত্রের মতোই পরিচালিত হই, যেখানে বাইরের পরিস্থিতিই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের কাজগুলো বাইরের চাপের মুখে সবচেয়ে সহজ পথ ধরে এগিয়ে যায়। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে—আমরা নিজের আবেগকে সত্যিকার অর্থে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আমরা হয়তো কোনো আবেগকে দমন করার চেষ্টা করি, বা এক আবেগকে অন্য দিয়ে ঢাকতে চাই, কিন্তু আসলে আবেগই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে, আমরা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।

একইভাবে, আমরা কোনো কাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারি—আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ‘আমি’ সেই সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু যখন কাজটি করার সময় আসে, তখন দেখা যায় আমরা ঠিক উল্টোটা করে ফেলছি। যদি বাইরের পরিস্থিতি অনুকূলে থাকে, তাহলে হয়তো আমরা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতে পারি; কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আমরা পরিস্থিতির দিকেই ঝুঁকে পড়ি। অর্থাৎ, আমাদের কাজের ওপর আমাদের নিজের নিয়ন্ত্রণ নেই—আমরা যন্ত্রের মতোই বাইরের প্রভাবের অধীন।

তবে এর অর্থ এই নয় যে মানুষের পক্ষে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ অর্জন করা অসম্ভব। বরং সমস্যা হলো, আমরা এখনো সেই অবস্থায় পৌঁছাইনি, কারণ আমরা নিজের ভেতরেই বিভক্ত। আমাদের ভেতরে একদিকে শক্তিশালী অংশ, অন্যদিকে দুর্বল অংশ কাজ করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমাদের শক্তি যত বাড়ে, দুর্বলতাও ততই বাড়তে পারে—এবং আমরা যদি তা থামাতে না শিখি, তাহলে সেই দুর্বলতাই একসময় নেতিবাচক শক্তিতে পরিণত হয়।

যখন মানুষ নিজের কাজ ও সত্তাকে সত্যিকারভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে, তখন চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে যায়। অস্তিত্বের একটি নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছালে মানুষ নিজের প্রতিটি অংশকে সচেতনভাবে পরিচালনা করতে পারে। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় আমরা এখনো সেই জায়গায় পৌঁছাইনি—এমনকি আমরা যা করার সিদ্ধান্ত নিই, সেটুকুও ধারাবাহিকভাবে করতে পারি না।

একজন থিওসফিস্ট প্রশ্ন করলেন যে আমরা কি পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে পারি?

উত্তর: পরিস্থিতি কখনোই বদলায় না—সবসময় একই থাকে। কোনো প্রকৃত পরিবর্তন নেই, শুধু পরিস্থিতির রূপান্তর বা পরিবর্তিত অবস্থা (modification) ঘটে।

প্রশ্ন: একজন মানুষ যদি ভালো হয়ে ওঠে, সেটাকে কি পরিবর্তন বলা যায় না?

উত্তর: একজন মানুষ মানবজাতির জন্য কিছুই না। একজন ভালো হলে আরেকজন খারাপ হয়—শেষ পর্যন্ত সব একই থাকে।

প্রশ্ন: কিন্তু একজন মিথ্যাবাদী যদি সত্যবাদী হয়ে ওঠে, সেটাকে কি উন্নতি বলা যায় না?

উত্তর: না, সেটাও একই বিষয়। আগে সে যান্ত্রিকভাবে মিথ্যা বলত, কারণ সে সত্য বলতে পারত না; পরে সে যান্ত্রিকভাবে সত্য বলবে, কারণ তখন সেটাই তার জন্য সহজ হয়ে যাবে। সত্য ও মিথ্যার মূল্য তখনই, যখন আমরা এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। আমাদের বর্তমান অবস্থায় আমরা নৈতিক হতে পারি না, কারণ আমরা যান্ত্রিক। নৈতিকতা আপেক্ষিক—এটি ব্যক্তিনির্ভর, বিরোধপূর্ণ এবং যান্ত্রিক।

আমাদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য—শারীরিক মানুষ, আবেগীয় মানুষ, বুদ্ধিবৃত্তিক মানুষ—প্রত্যেকেরই নিজস্ব আলাদা নৈতিকতা আছে, যা তার প্রকৃতির সঙ্গে মানানসই। প্রত্যেক মানুষের এই ‘যন্ত্রসত্তা’ তিনটি মৌলিক অংশ বা কেন্দ্র (center) দিয়ে গঠিত। যেকোনো মুহূর্তে নিজেকে দেখুন এবং প্রশ্ন করুন: “এই মুহূর্তে কোন ‘আমি’ কাজ করছে? এটি কি আমার বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্রের, আবেগীয় কেন্দ্রের, না কি গতিশীল (moving) কেন্দ্রের?” আপনি হয়তো দেখবেন, এটি আপনার কল্পনার থেকে ভিন্ন—কিন্তু এই তিনটির মধ্যেই একটি।

প্রশ্ন: এমন কোনো চূড়ান্ত নৈতিক বিধান কি নেই, যা সব মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য?

উত্তর: আছে। যখন আমরা আমাদের সব কেন্দ্রকে নিয়ন্ত্রণকারী সব শক্তিকে ব্যবহার করতে পারব, তখন আমরা সত্যিকারের নৈতিক হতে পারব। কিন্তু ততদিন, যতদিন আমরা আমাদের সামর্থ্যের কেবল একটি অংশ ব্যবহার করি, আমরা নৈতিক হতে পারি না। আমরা যা কিছু করি, তা যান্ত্রিকভাবে করি—আর যন্ত্র কখনো নৈতিক হতে পারে না।

প্রশ্ন: তাহলে তো অবস্থাটা খুবই হতাশাজনক মনে হচ্ছে?

উত্তর: একদম ঠিক—এটা হতাশাজনকই।

প্রশ্ন: তাহলে আমরা কীভাবে নিজেদের পরিবর্তন করব এবং আমাদের সব শক্তি ব্যবহার করতে শিখব?

উত্তর: সেটা আরেকটি বিষয়। আমাদের দুর্বলতার প্রধান কারণ হলো—আমরা আমাদের ইচ্ছাশক্তিকে (will) একসাথে তিনটি কেন্দ্রেই প্রয়োগ করতে পারি না।

প্রশ্ন: আমরা কি কোনো একটিতেও ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগ করতে পারি?

উত্তর: অবশ্যই, কখনো কখনো পারি। কখনো কখনো আমরা সাময়িকভাবে একটি কেন্দ্রকে নিয়ন্ত্রণও করতে পারি, এবং তখন আশ্চর্য ফল দেখা যায়। (তিনি একটি গল্প বলেন—একজন বন্দি তার স্ত্রীর কাছে বার্তা পৌঁছাতে একটি কাগজের বল একটি উঁচু ও কঠিন জানালা দিয়ে ছুঁড়ে দেয়।)

এটাই তার মুক্ত হওয়ার একমাত্র উপায়। যদি সে প্রথমবার ব্যর্থ হয়, তবে আর কোনো সুযোগ পাবে না। সেই মুহূর্তে সে তার শারীরিক কেন্দ্রের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে সক্ষম হয়—এবং এমন একটি কাজ সম্পন্ন করে, যা অন্যথায় তার পক্ষে কখনোই সম্ভব হতো না।

প্রশ্ন: আপনি কি এমন কাউকে চেনেন, যিনি এই উচ্চতর অস্তিত্বের স্তরে পৌঁছেছেন?

উত্তর: আমি যদি হ্যাঁ বা না বলি, তাতে কোনো অর্থ নেই। যদি বলি হ্যাঁ—আপনি তা যাচাই করতে পারবেন না; আর যদি বলি না—তাতেও আপনার কোনো লাভ হবে না। আপনাকে আমার কথা বিশ্বাস করার কোনো প্রয়োজন নেই। আমি আপনাকে বলি—যা আপনি নিজে যাচাই করতে পারবেন না, তা বিশ্বাস করবেন না।

প্রশ্ন: যদি আমরা পুরোপুরি যান্ত্রিক হই, তাহলে আমরা কীভাবে নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ পাব? একটি যন্ত্র কি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে?

উত্তর: একদম ঠিক—পারে না। আমরা নিজেরা নিজেদের বদলাতে পারি না। আমরা কেবল সামান্য পরিবর্তন (modify) করতে পারি। কিন্তু বাইরের সাহায্যে আমরা পরিবর্তিত হতে পারি। গুপ্তবিদ্যার (esotericism) মতে, মানবজাতি দুইটি বৃত্তে বিভক্ত—একটি বৃহৎ বাইরের বৃত্ত, যেখানে সব মানুষ আছে; আর একটি ছোট, কেন্দ্রীয় বৃত্ত, যেখানে আছে জ্ঞানপ্রাপ্ত ও বোঝাপড়াসম্পন্ন মানুষরা। সত্যিকারের শিক্ষা, যা আমাদের পরিবর্তন করতে পারে, কেবল এই কেন্দ্র থেকেই আসে। এই শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো—আমাদের এমনভাবে প্রস্তুত করা, যাতে আমরা সেই শিক্ষাকে গ্রহণ করতে পারি। আমরা নিজেরা নিজেদের পরিবর্তন করতে পারি না—এটি কেবল বাইরের সাহায্য থেকেই সম্ভব।

প্রত্যেক ধর্মই এক ধরনের সাধারণ জ্ঞানের কেন্দ্রের অস্তিত্বের কথা বলে। প্রতিটি পবিত্র গ্রন্থেই সেই জ্ঞান রয়েছে, কিন্তু মানুষ তা জানতে চায় না।

প্রশ্ন: কিন্তু আমাদের কাছে তো ইতিমধ্যেই অনেক জ্ঞান আছে, তাই না?

উত্তর: হ্যাঁ—অত্যধিক রকমের জ্ঞান আছে। আমাদের বর্তমান জ্ঞান ইন্দ্রিয়ের অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে—যেমন ছোট শিশুদের জ্ঞান। যদি আমরা সঠিক ধরনের জ্ঞান অর্জন করতে চাই, তাহলে আমাদের নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের সত্তার বিকাশ ঘটলে আমরা উচ্চতর চেতনার স্তরে পৌঁছাতে পারি। জ্ঞানের পরিবর্তন আসে সত্তার পরিবর্তনের মাধ্যমে। জ্ঞান নিজে কিছুই না। প্রথমে আমাদের আত্মজ্ঞান অর্জন করতে হবে, এবং সেই আত্মজ্ঞানই আমাদের শেখাবে কীভাবে নিজেদের পরিবর্তন করতে হয়—যদি আমরা সত্যিই পরিবর্তিত হতে চাই।

প্রশ্ন: তাহলে কি এই পরিবর্তনও বাইরে থেকেই আসতে হবে?

উত্তর: হ্যাঁ। যখন আমরা নতুন জ্ঞানের জন্য প্রস্তুত হব, তখন তা আমাদের কাছে এসে পৌঁছাবে।

প্রশ্ন: আমরা কি বিচারবুদ্ধির মাধ্যমে (judgment) আমাদের আবেগ পরিবর্তন করতে পারি?

উত্তর: আমাদের এই যন্ত্রসত্তার একটি কেন্দ্র আরেকটি কেন্দ্রকে পরিবর্তন করতে পারে না। যেমন—লন্ডনে আমি বিরক্ত ও খিটখিটে হয়ে যাই, কারণ আবহাওয়া ও পরিবেশ আমাকে নিরুৎসাহিত করে; কিন্তু ভারতে আমি শান্ত ও ভালো মেজাজে থাকি। তখন আমার বিচারবুদ্ধি বলে—ভারতে গেলে আমি এই বিরক্তি থেকে মুক্ত হতে পারি। কিন্তু আবার লন্ডনে আমি কাজ ভালোভাবে করতে পারি, আর উষ্ণ অঞ্চলে (tropics) ততটা পারি না। ফলে সেখানে গিয়ে আমি অন্য কারণে বিরক্ত হয়ে উঠব। দেখতেই পাচ্ছেন—আবেগ বিচারবুদ্ধির ওপর নির্ভর করে না; একটিকে অন্যটির মাধ্যমে পরিবর্তন করা যায় না।

আরও লেখা

জীবন-মৃত্যুর অন্তর্লোক: তিব্বতি দর্শন (পর্ব – ১)

The Tibetan Book of Living and Dying এর এবং বই পরিচিতি: Sogyal Rinpoche ছিলেন একজন তিব্বতি বৌদ্ধ আধ্যাত্মিক শিক্ষক, যিনি পশ্চিমা বিশ্বের মানুষের কাছে তিব্বতি...
ভাষান্তর

ভাব বিনিময়ের সূক্ষ্ম শিল্প (পর্ব – ১)

বই পরিচিতি The Art of Communicating হলো ভিয়েতনামি জেন বৌদ্ধ গুরু Thích Nhất Hạnh-এর লেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ বই। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৩ সালে, প্রকাশক...
ভাষান্তর

একাকীত্ব প্রসঙ্গে ওশো

আমরা সবাই একা। এই পুরো পৃথিবীটা অধিক জনসংখ্যায় হয়তো উপচে পড়ছে কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রতিটি মানুষ এখানে একা। এমনকি খুব ভিড়ের মাঝে থেকেও তুমি...
চয়নিকা
spot_imgspot_img