চরিত্র
০১. শিহাব
(নামের অর্থঃ Shooting star, উল্কা)
– কিছুটা লম্বাটে, উজ্জ্বল বর্ণ, তারুণ্য যেমন আছে তেমনই শ্নাত প্রকৃতির।
– কর্পরেট জব করে কিন্তু এক্সাক্টলি কি সেটা বোঝা যাবে না। দরকারও নাই।
– স্মার্ট ছিপছিপে, মেদহীন, জিম করতেও পারে। মোটকথা ব্যালেন্সড লাইফ লিড করে।
– কোনকিছুর বিশেষ কমতি নাই কিন্তু একটা অজানা জায়গায় আছে।
০২. শ্যামা
(নামের অর্থঃ কালীর অন্য নাম শ্যামা যার অর্থ আদ্যাশক্তি)
– শ্যাম বর্ণের হতে হবে এমন নয়। শিহাবের তুলনায় এক্সট্রোভার্ট।
– নিজের অনুভূতি সম্পর্কে সে সচেতন। শিহাব যেমন নিজেকে খুব বুঝে উঠতে পারেনি তেমন নয়।
দৃশ্য ১
এই ঢাকা শহরে কর্পরেট চাকরী করতে করতে ক্লান্ত শিহাব। তার এই ক্লান্তি অবশ্য সকলের অজানা। একা একটা ছোট্ট ফ্ল্যাটে উঠেছে সে সম্প্রতি। বিশেষ ফার্নিচার নেই। সকালে উঠে ওটস, ডিম সেদ্ধ আর একটা কফি মগ নিয়ে নিজে হাতে আয়রন করা পোশাক পরে কানে হেডফোন গুঁজে সে আপিসে যায় রোজ। আপাতভাবে শুনলে মনে হবে সে সোশ্যাল না। ব্যাপারটা ঠিক তেমন না। সে জীবনে একাকী কিন্তু নারী বা বন্ধু কারোর জন্য অমন মরিয়া নয়। শিহাব সম্ভবত নিজেও জানেনা সে কি চায়, কিন্তু তার মাঝে একটা স্থিরতা আছে। আমরা এক বা দুই মিনিটে শিহাবের নিয়মিত জীবন প্রণালীর কিছু চিত্র দেখব যেখানে অনেক মানুষ অফ ফোকাসে এবং তাদের সাথে শিহাবের কথাও হয়। এখানে কোনো সংলাপ নেই। আবহ সঙ্গীত অথবা নানা সিচুয়েশন অনুযায়ী আশেপাশের মানুষের আওয়াজ থাকতে পারে। অথবা দুটোই থাকতে পারে যেমন শিহাব কানে হেডফোন দিলে সে যে গানটা শুনতে পাবে সেটাই আমরা শুনবো। আমরা আসলে গোটা একটা গানই এই ফিল্মের জন্য বানিয়ে ফেলতে পারি বা মিউজিক পিস। শিহাব ওর আশেপাশের মানুষজনের সাথে কথা বলবে কিন্তু সেগুলো আমরা শুনবো না। অথচ শিহাবের দীর্ঘশ্বাস শুনবো। এই কতগুলো দৃশ্যের কোলাজে আমরা শিহাবের স্থির যে একাকীত্ব সেটাই দেখবো।
মোটা দাগে ভিজুয়াল কাঠামো যেমন হতে পারে:
ক্যালেন্ডারে এক এক করে দিন পার < ঘুম ভাঙা < আপিসের জন্য রেডি হওয়া < সবার সাথে আপিস যাওয়া < টেরাসে গ্রুপ লাঞ্চ < আপিস শেষে বন্ধুদের সাথে চা নাস্তা < বাসায় টিভি অন কিন্তু অন্যমনস্ক হয়ে রাতের খাবার খাওয়া < অতঃপর ঘুম।
এরপর একদিন ক্যালেন্ডারে ছুটির দিন আসে।
দৃশ্য ২
Indoor: বাতিঘর, ঢাকা
শিহাবের মনোলগ:
ঢাকায় যখনই আমার খারাপ লাগে, আমি বাতিঘরে চলে আসি।
কেন? কেননা যখনই আমি বাতিঘরে আসি আমি একরাশ ব্যাথা বুকে বয়ে আনি। এই ব্যাথাদের আমি না ঘরে ফেলে আসতে পারি না অন্যকোথাও।
এই ব্যাথারা আমার খুব কাছের, এরা খুব দামী। তাহলেও বাতিঘরে এসে কি কাজ? কি হয় এখানে এলে? এখানে এসে আমি ইচ্ছেমতন একটা বই বের করি। হাত দিয়ে তাকে স্পর্শ করি। একটা টেবিলে তাকে নিয়ে বসে পড়তে আরম্ভ করি। আর এই পুরো সময়টায় আমার শ্বাস প্রশ্বাসের মধ্য দিয়ে
আমার ব্যাথাগুলো সেই বইয়ের সমস্ত পাতা শুষে নেয়। তারপর সেই বইটাকে আমি অতি যত্ন সহকারে তাকে উঠিয়ে রাখি। আমার তখনকার পড়া আর আমার সাথে থাকা এই অতি মূল্যবান ব্যাথাদের মিলিয়ে তৎক্ষণাৎ আমি কাগজে কলমে লিখতে থাকি। আমার ব্যাথা আর আমার পড়ার বোধের মিথস্ক্রিয়ায় আমার খাতার পাতাগুলো ভরে ওঠে। হাইস্পিডে সারাদিন অফিসের কম্মপিউটারে লিখতে লিখতে সপ্তাহের এই দুইটা দিন হাতে কলমে সময় নিয়ে যত্ন করে লিখতে আমার বেশ লাগে।
আর সাথে একটা কফি হলে সারা শরীরে ঝিরঝিরিয়ে একটা আনন্দ না বয়ে আর উপায় কি!
(সংলাপ অনুযায়ী দৃশ্যায়ন হবে। অফ-ফোকাস থেকে ফোকাসে দেখা যাবে একটা মেয়ে বই হাতে শিহাবের আগে থেকে এককোণে বসেছিলো এবং সে গভীর মনোযোগ দিয়ে শিহাবকে দেখে যাচ্ছে। মেয়েটার চোখে মুখে রাজ্যের কৌতুহল!)
সেদিন রাতে বাসায় ফিরে এসে খুব আরামের ঘুম দেয় শিহাব।
দৃশ্য ৩
Indoor: বাতিঘর, ঢাকা
পরদিন শিহাব আবার বাতিঘরে যায়। সেদিন একটা বই বের করে সবে পড়তে বসবে এমন সময় পাশের টেবিল থেকে একটা মেয়ের চিৎকার শুনতে পাওয়া যায়।
শ্যামা
আপনি জোর করবেন কেন আমাকে!
অচেনা ভদ্রলোক
আপনি চিৎকার করছেন কেন?
শ্যামা
তাই বলে আপনি আমাকে জোর করবেন?
ভদ্রলোক
দেখুন এভাবে কথা বললে লোকে ভুল বুঝবে!
শ্যামা
আর আমার যে কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে সেটা আপনি বুঝবেন না?
(মেয়েটার সাথে বসে থাকা ভদ্রলোকটি বাতিঘরে অন্য অন্য লোকদের মুখে সন্দেহের ছাপ দেখতে পেয়ে দ্রুতবেগে জায়গা ত্যাগ করে। শ্যামা তাই দেখে দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফুপিয়ে কাঁদতে শুরু করে। শিহাব কিছু না ভেবে তার রুমালটা নিয়ে এগিয়ে আসে। শ্যামার মুখের সামনে ধরলে শ্যামা রুমালটা নিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে নিজেকে সামলাতে চেষ্টা করে। হাত দিয়ে ইশারায় শিহাবকে টেবিলের অপপ্র পাশের চেয়ারে বসতে অনুরোধ করে।)
শ্যামা
দেখুন আমি অন্যায় কোনো দাবী উনার কাছে করিনি।
শিহাব
উনি কি আপনাকে বিরক্ত করছে?
শ্যামা
বিরক্ত তো বটেই। দীর্ঘদিন ধরেই করছে।
(শিহাবের লোকটাকে পেটানোর একটা ইচ্ছে তৈরি হচ্ছে। সেটা তার মুখ দেখে আমরা বুঝতে পারবো। শিহাব চেয়ার ছেড়ে উঠে পরে। সে টেরাসে যেয়ে নিচে তাকায়। লোকটা নিচে চলে গিয়েছে এবং ঠিক সেই সময়ে একবার উপরে তাকিয়ে শিহাবের মুখ দেখে আরো দ্রুত পালিয়ে যায়। শ্যামাও ঊঠে আসে টেরাসে। শিহাবের পাশে গিয়ে দাঁড়ায় সে।)
শিহাব
আপনার কোনো সাহায্য লাগবে? কাউকে ফোন করবেন?
শ্যামা
কেন ফোন করবো কেন? শুনেন, হাসি এলে লোকে কোনো সমস্যা করে না। হা-হা-হা করে জোরছে হাসলে হয়তো একটু বিরক্ত হতে পারে কেউ।
কিন্তু কান্না করা যাবে না তাই বলে? আপনিই বলেন এটা কান্নার প্রতি অবিচার নয়? আপনার সততার প্রতি অবিচার নয়?
শিহাব
জ্বি নিশ্চয় নিশ্চয়। (আমতা আমতা করতে করতে)
শ্যামা
আমি দীর্ঘদিন ধরে এতগুলো কবিতা লিখলাম আর উনিও আমাকে ভরসা দিলেন যে বইটা বের করবেন। এই যে দেখুন আমি প্রুফ রিড করিয়েছি। পাণ্ডুলিপি নিয়ে উনার পিছে পিছে ঘুরে বেড়াচ্ছি আজ ছয় মাস। আমার কবিতা নাকি খুব ভালো কিন্তু একটাও প্রেমের কবিতা নেই। প্রেমের কবিতা ছাড়া উনি বই ছাপবেন না। এটা তো উনি আমাকে আগে বললেও পারতেন, তাই না?
শিহাব
ও, প্রেমের কবিতা নেই?
শ্যামা
না, নেই।
শিহাব
অবশ্য একজন কবিকে এভাবে লিখতে বাধ্য করা যায় না।
শ্যামা
না তাতো যায় না কিন্তু সমস্যা সেখানেও নেই। আমার অনেকগুলো প্রেমের কবিতা লেখা আছে। সত্যি বলতে প্রেমের কবিতার সংখ্যায় বেশি।
শিহাব
ও!
(শিহাব চুপ মেরে যায়। এই মেয়ের সমস্যা কি সে বুঝতে পারে না।)
শ্যামা
তাহলে সমস্যা কোথায়?
(শিহাবের মনের কথা টের পেয়ে মেয়েটা বলে। জবাবে শিহাব মাথা নাড়ে।)
শ্যামা
সমস্যা হলো প্রেমের কবিতা আমি বেচবো না।
(দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। শিহাবও বুঝতে পারছে না কি বলবে। তাই দেখে মেয়েটা তার কান্নার বেগ বাড়িয়ে দেয়।)
শ্যামা
এখন আপনিও নিশ্চয় ভাবছেন এ কোন বোকার পাল্লায় পড়লাম।
শিহাব
এই ইয়ে না না। শুনুন, কাঁদবেন না প্লিজ। প্রেমের কবিতা কেউ বেচবে না এতো নতুন শুনলাম। তাছাড়া বেচাবেচিই-বা ভাবছেন কেন? এই যে এত এয় হৃদয় নাড়ানো প্রেমের কবিতা আছে সেগুলো তো বই কিনেই পড়েছি। তাও তো বুকে এসে লাগে শব্দগুলো।
শ্যামা
তাহলে রোজ শুক্র-শনি করে আপনি বাতিঘরে এসে ফ্রি ফ্রি বই না পড়লেই পারতেন। বইগুলো কিনে পড়েননা কেন? কোন বইটার উপরে আপনার টান বেশি বলুন? কেনা বই নাকি ওই সেলফে তুলে রাখা অতগুলো বই?
(শিহাব লজ্জায় পড়ে যায়।)
শিহাব
ও, আপনি দেখেছেন বুঝি!
শ্যামা
তাছাড়া প্রেমের কবিতাগুলো অবরুদ্ধ করেতো রাখিনি। বরং ওগুলো যেন না কিনে সবাই পড়তে পারে সেটাই আমি চাই। আপনাকেই শোনাচ্ছি এখন একটা শুনুন। না বেচা প্রেমের একটা কবিতা শুনুন।
(আমরা দেখব ঘূর্ণায়মান ক্যামেরায় মেয়েটি একটা কবিতা বলে যাচ্ছে অত্যন্ত প্যাশানের সাথে। সেই কবিতা আমরা শুনতে পাবো না যেহেতু এটা না বেচা প্রেমের কবিতা। কিন্তু কবিতা শুনে মুগ্ধ হতে দেখা যায় শিহাবকে। শিহাবের চোখে মুখে সেই অভিব্যক্তি স্পষ্ট। কবিতা শেষ হলে আশেপাশের শব্দ বেড়ে যায় ছাড়া কবিতা চলাকালীন একটা স্বপ্নময় আবহ সঙ্গীত শোনা যেতে থাকে। কবিতা আবৃত্তি শেষ হলে দুজনে নীরব হয়ে থাকে কিছুক্ষণ। জুম-আউট করতে করতে ঝাপসা হয়ে আসে পর্দা।)
দৃশ্য ৪
Outdoor: শাহাবাগের BSMMU এর এ ব্লকের ছাদ, পড়ন্ত বিকেলে
উঁচু ভবনের ছাদে শিহাব আর সেই মেয়েটি পাশাপাশি শুয়ে আছে। বাতাসে তাদের চুল উড়ছে, পোশাক উড়ছে। চোখ দুটো কারো কখনো বন্ধ, কখনো খোলা। মৃদু বাতাস হচ্ছে। শহুরে রাস্তায় ক্যাওয়াজ শোনা যাচ্ছে খুব। এরই মাঝে কিছু পাখিও ডেকে যাচ্ছে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে এই অবস্থা ক্লোজলি দেখানো হবে। কোনো সংলাপ নেই কিন্তু পাশাপাশি দুটো মানুষের নিশ্চুপ শুয়ে থাকার শব্দ, তাদের দমের শব্দ, তাদের আলতো করে হাত স্পর্শ করা, আলতো চোখে চেয়ে দেখা এরসবকিছুই আমরা দেখবো। তাদের অনুভব করবো।
শ্যামা উঠে বসে মাথা থেকে চুল বাঁধার স্কার্ফটা খুলে ফেলে। ছাদের রেলিং এর ধারে যেয়ে হাত উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে সে। হাতের স্কার্ফটা বাতাসে পতপত করে উড়ছিলো। পরক্ষণেই আঙ্গুল ঢিলে করে স্কার্ফটা উড়িয়ে দিলো সে। তাই দেখে শিহাব উঠে বসে। দুজনেই এই অদ্ভুত কাণ্ডে শব্দ করে হেসে ওঠে। শিহাব একটু একটু করে শ্যামার কাছে এগিয়ে আসে।
শ্যামা বিড়বিড় করে বলছে…
শ্যামা
গিরতে হ্যায় শাহসাওয়ার হি ম্যায়দানি জাংগ মে
উও তিফ্ল কেয়া গিরেগা জো ঘুটনো কে বাল পে চালে।
শিহাব
মির্জা আজিম বেগ?
(শ্যামা মাথা নাড়ায়।)
শিহাব
ঘোড়ায় থাকা সৈনিকই যুদ্ধের ময়দানে পড়তে পারে
সেই নাবালক কীভাবে পড়ে আহত হবে
যে এখনো হাঁটুতে ভর দিয়ে চলে
(শিহাব পিছন থেকে শ্যামাকে জড়িয়ে ধরে।)
শিহাব
প্যারালাল ইউনিভার্স সম্পর্কে জানিস?
শ্যামা
হুমমমমমমম
শিহাব
মানিস?
শ্যামা
হুমমমমমমম
(শ্যামার মুখে এবার হাসি। সে উলটে শিহাবের দিকে ফেরে। দুজনের দুজনের হাত ধরে থাকে।)
শ্যামা
কোনো এক ভোরবেলা, রাত্রিশেষে শুভ শুক্রবারে
মৃত্যুর ফেরেস্তা এসে যদি দেয় যাওয়ার তাকিদ;
অপ্রস্তুত এলোমেলো এ গৃহের আলো অন্ধকারে
ভালোমন্দ যা ঘটুক, মেনে নেবো: এ আমার ঈদ।
শিহাব
আল মাহমুদ?
(শ্যামা মাথা নাড়ে। শিহাবের দিকে পিছন ফিরে আবার আগের ভঙ্গিতে ফিরে আসে।)
শ্যামা
মরণের আগে মরণ।
ঐ যে দূরে নোয়ার নৌকা।
নিয়ে যাবে আমাদের প্যারালাল ইউনিভার্সে।
(আকাশে কাল্পনিক মেঘ দেখিয়ে কথাগুলো বলে শ্যামা।)
শিহাব
কি যা তা বকছিস!
শ্যামা
কেন? তুমি প্যারালাল ইউনিভার্স মানোনা?
(শিহাব কেমন যেন চুপ মেরে যায়। শ্যামা বলতে থাকে…)
শ্যামা
ফেলে যাচ্ছি খড়কুটো, পরিধেয়, আহার, মৈথুন –
নিরুপায় কিছু নাম, কিছু স্মৃতি, কিংবা কিছু নয়;
অশ্রুভারাক্রান্ত চোখে জমে আছে শোকের লেগুন;
কার হাত ভাঙে চুড়ি? কে ফোঁপায়? পৃথিবী, নিশ্চয়।
স্মৃতির মেঘলাভোরে শেষ ডাক ডাকছে ডাহুক,
অদৃশ্য আত্মার তরী …
(শিহাব এবারে শ্যামার কথাগুলো ধরে নিজেই বলতে শুরু করে।)
শিহাব
অদৃশ্য আত্মার তরী কোন ঘাটে ভিড়ল কোথায়?
কেন দোলে হৃদপিণ্ড, আমার কি ভয়ের অসুখ?
নাকি সেই শিহরণ পুলকিত মাস্তুল দোলায়!
আমার যাওয়ার কালে খোলা থাক জানালা দুয়ার
যদি হয় ভোরবেলা স্বপ্নাচ্ছন্ন শুভ শুক্রবার।
(একটু পরে ছাদে আর কাউকে দেখা যায় না। মনে হলো রেলিং থেকে দুজনে ঝাঁপ দিয়েছে হয়তো। কিন্তু নিচের ব্যস্ত লোকারণ্য রাস্তায় কারো মরদেহ নেই। ছাদের উপরে থাকা দুইজনের স্মার্ট ফোন পড়ে আছে। শিহাবের অফিস খোলা ব্যাগ দেখা যায়। সেখান থেকে বেরিয়ে পড়ছে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, পেপার্স, ল্যাপটপ। আকাশ কাপিয়ে বৃষ্টি পড়া শুরু হলো। ঝড়ো বাতাসে সব উড়িয়ে নিতে চাইছে যেন।)
এই পৃথিবী থেকে দুম করে দুইজন মানব মানবী কেমন করে নাই হয়ে গেলো কেউ টেরও পেলো না……
দৃশ্য ৫
Outdoor: আমাদের স্বাভাবিক রোজকার গ্রামাঞ্চল, শীতের উষ্ণ দুপুর
শ্যামার মাথার সেই স্কার্ফ খোলা হাওয়ায় উড়ছে। শিহাব সেটা ধরে ফেলল। স্কার্ফটা এনে শ্যামার মাথায় পরিয়ে দেয় সে। পুকুর ঘাটের ধারে এক সর্ষে ক্ষেতে শ্যামা আর শিহাব একটা পিকনিক করতে এসেছে, অথবা এটাই তাদের ঘর সংসার আমরা তা জানিনা। দুজনে মিলে কিছু বই আর ফলমূল এনেছে। ফ্লাস্কে আছে চা। আরো শুকনো কিছু খাবার। একটা সুন্দর সাদা নকশি কাঁথা পেড়ে তার উপর উপুড় হয়ে শুয়ে খাতার লেখা আর পেন্সিল ধরে আছে শ্যামা, কিন্তু দৃষ্টি দিগন্তের দিকে। নিমগ্ন হয়ে আছে দেখার মাঝে, প্রকৃতির সৌন্দর্য সুধা পানের মাঝে।
শিহাবকেও দেখে নেয় এক ফাঁকে সে। শিহাব একটা দোলনা রেডি করছে। একে অপরের দিকে দৃষ্টি বিনিময় করে তারা, মৃদু হাসে। শিহাব গাছ ঘেঁষে বসে ওর গিটারে অচেনা সুর তোলে মাঝে মাঝে খাতায় নোটগুলো লিখে আবার পেন্সিলটা কানে গুঁজে রাখে। এরসবই শ্যামা দেখতে থাকে। একসময় খাতায় সে লিখতে শুরু করে। এই প্রথমবার আমরা তার লেখা প্রেমের কবিতাটি দেখতে পাবো। যেহেতু এ এক অন্য জগত, যেখানে কিছু বিক্রি হয় না।





