সংশয় হইতে সত্যের পথে

পারমার্থিক

যত প্রশ্ন মনে উদিত হয় সব কি নির্ভয়ে বলিতে পারি আমরা? পারি না।

অনেক জিজ্ঞাসা মনে আসিলেও উচ্চারণ করি না! কিন্তু প্রশ্ন তো জাগে। জিজ্ঞাসা করিবো কাহার কাছে? করিলে উত্তর না পাইলেও ক্ষতি নাই কিন্তু বিপদে পড়িবার আশঙ্কা বিলক্ষণ!

যেমন, ছোটবেলায় অবুঝ মনের জিজ্ঞাসা ছিল,

  • আল্লাহ তো নিরাকার, তাহা হইলে মেরাজে গিয়া নবীজি আল্লাহর দিদার লাভ করিলেন কীভাবে?
  • কোরআনের প্রথম নাযিলকৃত আয়াত ‘ইকরা বে ইসমি রাব্বিকা..’ তাহা হইলে আমরা যে কোরআন পাঠ করি, তাহা কেন সূরা ফাতিহা দিয়া শুরু?
  • শবে বরাতের রাতে গাছপালা নাকি সেজদায় থাকে। শিশুকালে গভীর কৌতূহল লইয়া জানালা খুলিয়া দেখিয়াছি, বৃক্ষকুলের কেউ সেজদায় (নিচু হইয়া) নাই, সকলেই বহাল তবিয়তে দণ্ডায়মান!

শিশুমনের এইরূপ কতশত জিজ্ঞাসা! গ্রহণযোগ্য উত্তর না পাইয়া কেবল মনের মাঝে ঘুরিয়া বেড়াইত।

আমার বাবা-মা হাজি, নামাজি এবং রোজাদার ছিলেন। রক্ষণশীল ধর্মভীরু পরিবারে আমার জন্ম। ধর্মীয় আবহে বড় হইয়াছি। বড় বড় সূরা মুখস্ত করিয়াছি। প্রতি রমজানে কোরআন খতম। ইয়াসিন আর রহমান এরকম বড় সুরা মুখস্ত করিলে আম্মা নতুন জামা দিতেন। তিনি(আম্মা)খুব দ্রুত অর্থ বুঝিয়া, ব্যাকরণ জানিয়া আরবি পড়িতেন। এইসব কথা বলিয়া বুঝাইতে চাহিতেছি, আমি নাস্তিক কিংবা ধর্মবিদ্বেষী মানুষ না। পাঠক যেন শুরুতেই আমাকে ভুল বুঝিয়া না বসেন!

যাহা হউক, এইসব জিজ্ঞাসা মনে পুষিয়া রাখিয়া বড় হইয়াছি, বুড়ো হইয়াছি। জীবনে প্রথম বড়সড় ধাক্কা খাইলাম অধ্যাপক মোফাখখারুল ইসলামের ‘ইতিহাসগত বিভ্রান্তির রহস্য’ বইটি পাঠ করিয়া!

তাহার পর সুফিগুরু সদর উদ্দিন আহমেদ চিশতি(র.)র মাওলার অভিষেক, রমজান দর্শন, কোরআন দর্শন…। শ্রদ্ধেয় গুরুভাই লেখক, গবেষক হিলালুজ্‌জামান হেলাল রচিত ‘কোরআনে মুমিনতত্ত্ব’, ‘কোরআনে মানুষতত্ত্ব’ ইত্যাদি নামের মহামূল্য গ্রন্থসমূহ অনেক জিজ্ঞাসার উত্তর দিয়াছে! আল কোরআনের আধুনিক এবং বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা পড়িয়া মনে হইয়াছে এই তো আমার ছোট এবং বড়বেলার ধর্মসংক্রান্ত সকল জিজ্ঞাসার সরল-উত্তর!

সত্যসন্ধানী মন এক সময় না একসময় ঠিক উত্তরের কাছে পৌঁছায় কিংবা উত্তরই তাহার কাছে আসিয়া হাজির হয় । সহজ,সুন্দর,শুদ্ধ বোধ হইতে উৎসারিত অনুভব নিয়া সত্যানুসন্ধানী কিছু মানুষ পারমার্থিক প্রকাশনার আলো জ্বালাইবার প্রয়াস লইয়াছে।

মহতি এই উদ্যোগের আলোয় আলোকিত হউক অন্ধকার।

আমার মতো অনকেরেই মনে হয়তো আছে অনেক জিজ্ঞাসা। খোলামন লইয়া জিজ্ঞাসা করিলে পারমার্থিকের এই ধারাবাহিক প্রকাশনা অনুসন্ধিৎসু মনের পিপাসা অনেকখানি মিটাইতে পারিবে বলিয়া বিশ্বাস করি।

পহেলা বৈশাখ, ঢাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আরও লেখা

যেখানে সাধনা আর জীবনযাপন এক হয়ে যায়

আধ্যাত্মিকতা আলাদা চর্চার কোনো বিষয় না। প্রতিদিনের আহার-নিদ্রা, বাক্য-ভাবনা, প্রতি মুহূর্তের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া…. অর্থাৎ প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে আধ্যাত্মিকতার সম্পর্ক। এটি যিনি, যারা ধরিতে( বুঝিতে) না পারেন,...
সম্পাদকের বাড়ি
পারমার্থিক

মুমিন ব্যক্তি জগতের এক আশ্চর্য জিনিস

মানুষ সাধারণ জগতে বাস করিয়াও অসাধারণ হইতে পারেন। জগতের সকল নবি রসুলের এই কথা সকল মানুষের পক্ষে মানিয়া লওয়া সম্ভবপর নহে। তাঁহারা নিজেরাই যে...
টপ পোষ্ট
পারমার্থিক

জাগতিক না পারমার্থিক? – ৩

বাস্তব আর সত্য –ইহাদের মাঝে একটি অঘোষিত বিবাদ রহিয়াছে বলিতে হয়। জগতে যত বাস্তব বিষয় রহিয়াছে তাহার সকলই সত্য বলিয়া প্রতীতি হয় না। অবশ্য...
টপ পোষ্ট
পারমার্থিক

স্বস্তির একটাই পথ, নিজেকে দেখা

আমাদের বেশিরভাগ মানুষের জীবনই অবদমনের একেকটা গোডাউন! ব্যক্তিগত সংস্কার, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, বৈশ্বিক বিভিন্ন চাপে বিকশিত হওয়া দূরে থাক, জীবন মাথা তুলিয়া দাঁড়াইতে পারে না...
default
পারমার্থিক
1
previous arrow
next arrow
a
previous arrow
next arrow