বই পরিচিতি
The Art of Communicating হলো ভিয়েতনামি জেন বৌদ্ধ গুরু Thích Nhất Hạnh-এর লেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ বই। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৩ সালে, প্রকাশক ছিল HarperCollins-এর HarperOne imprint। বইটি মূলত ইংরেজিতেই প্রকাশিত হয়েছিল, অর্থাৎ এটি কোনো আলাদা ভিয়েতনামি লেকচার থেকে পরে অনুবাদ করা বই নয়; বরং থিচ নাত হানের বহু বছরের mindfulness teaching, retreat talk, এবং জীবনদর্শনের অভিজ্ঞতা থেকে সরাসরি ইংরেজি ভাষায় সাজানো একটি গ্রন্থ।
লেখক সম্পর্কে
তিক নাত হান ছিলেন ভিয়েতনামের একজন বিশ্ববিখ্যাত জেন বৌদ্ধ ভিক্ষু, শান্তিকর্মী, কবি ও দার্শনিক। তিনি mindfulness-কে আধুনিক বিশ্বে জনপ্রিয় করে তোলার অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। ১৯২৬ সালে ভিয়েতনামের হুয়ে শহরে জন্ম নেওয়া এই আধ্যাত্মিক গুরু “engaged Buddhism” ধারণাকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেন, যেখানে ধ্যান, করুণা ও সচেতন জীবনচর্চাকে সামাজিক শান্তি ও মানবকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তিনি France-এ Plum Village tradition প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ mindfulness practice center।
মৌলিক খাবার
খাবার ছাড়া কেউ বাঁচতে পারে না। আমরা যা কিছু গ্রহণ করি তা হয় আমাদের সারিয়ে তোলে, নয়তো ধীরে ধীরে বিষময় করে তোলে। আমরা সাধারণত মনে করি, মুখ দিয়ে গ্রহণ করা খাবারই কেবল আমাদের পুষ্টি দেয়। অথচ আমরা চোখ দিয়ে যা দেখি, কান দিয়ে যা শুনি, নাক দিয়ে যে গন্ধ পাই, জিভ দিয়ে যে স্বাদ নেই, কিংবা দেহে যে স্পর্শ অনুভব করি এসবই আমাদের খাদ্য। আমাদের চারপাশের গুঞ্জন, কথোপকথন, এমনকি যেসব ঘটনায় আমরা অংশ নিই সবই এই খাদ্যের অংশ।
এখন প্রশ্ন হলো, যা কিছু আমরা গ্রহণ করছি এবং সৃষ্টি করছি, তা কি আমাদের উচ্চতর সম্ভাবনার পথে এগিয়ে নিচ্ছে?
যখন আমরা এমন কিছু বলি যা আমাদের লালন করে, কিংবা আশেপাশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে, তখন আমরা ভালোবাসা ও করুণার সুধা পান করি। আর যখন আমাদের কথা ও কাজ দুশ্চিন্তা, ক্রোধ বা বিভাজন তৈরি করে, তখন আমরা আসলে সংঘর্ষ ও দুঃখকে লালন করি।
প্রায়ই আমরা এমন কথা শুনি, যা বিষের মতো হুল ফোটায়। আমরা যা দেখি বা পড়ি, তাও অনেক সময় আমাদের মনে নেতিবাচকতা জন্ম দেয়। কিন্তু আমরা কি এমন কিছু পড়ছি বা দেখছি, যা আমাদের মধ্যে বোধ ও করুণার বিকাশ ঘটায়? যদি তা পারে, তবে সেটাই প্রকৃত সুখাদ্য।
প্রতিদিনের জীবনে আমরা অনেক কিছুই “হজম” করি যা আমাদের মন খারাপ করায়, নিরাপত্তাহীন করে তোলে, অন্যদের বিচার করতে শেখায়, কিংবা নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবতে প্রলুব্ধ করে। তাই আমাদের উচিত, নিজের প্রতিদিনের কথোপকথন ও অভিজ্ঞতাগুলোকে একজন সচেতন গ্রাহকের মতো দেখা যেন আমরা বুঝতে পারি, কী ধরনের পুষ্টি আমরা গ্রহণ করছি।
ইন্টারনেট এই খাদ্যতালিকার একটি শক্তিশালী অংশ যার ক্ষমতা আছে আমাদের সারিয়ে তোলার, আবার একইসঙ্গে বিষময় করে তোলারও। মাত্র কয়েক মিনিট অনলাইনে থাকলেই অসংখ্য বিষয় আমাদের সামনে হাজির হয়। তাই ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করা সমাধান নয়; বরং আমরা কী দেখছি, কী পড়ছি সেই বিষয়ে সচেতন হওয়াটাই জরুরি।
যখন আপনি টানা তিন বা চার ঘণ্টা কম্পিউটারে কাজ করেন, খেয়াল করবেন আপনি যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলছেন সেই কাজে। এটা অনেকটা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খাওয়ার মতো। সারাদিন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খাওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি সারাদিন কম্পিউটারে ডুবে থাকাও স্বাস্থ্যকর নয়। অল্প পরিমাণে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই যেমন গ্রহণযোগ্য, তেমনি সীমিত সময় প্রযুক্তির ব্যবহারও স্বাভাবিক।
আপনি যা পড়ছেন এবং লিখছেন, তা-ও আপনাকে প্রভাবিত করে। তাই কী গ্রহণ করছেন, সে বিষয়ে সচেতন থাকুন। যখন আপনি এমন একটি ই-মেইল বা চিঠি লেখেন, যেখানে সহানুভূতি ও করুণার প্রকাশ আছে, তখন আপনি নিজেকেও সেই প্রক্রিয়ায় পুষ্ট করছেন। এমনকি একটি ছোট্ট নোট যা-ই লিখুন না কেন তা আপনাকে সারিয়ে তোলার ক্ষমতা রাখে। শুধু তাই নয়, যার উদ্দেশ্যে আপনি লিখছেন, তাকেও এটি স্পর্শ করে, তাকে পুষ্টি দেয়।
বাংলায়: সুপ্রভা জুঁই





