ভর্তিযুদ্ধ!- হেরে গেলাম কি? (পর্ব – ২)

পারমার্থিক

৬) সবার চোখ আমার উপর

ভর্তি পরীক্ষায় ধনী, গরীব মধ্যবিত্ত সকল শ্রেনীর ছেলে মেয়ে অংশগ্রহন করে। প্রস্তুতির বেলায় তাই সবাই সমান পরিবেশ, সার্ভিস পায়না। একে তো কৈশোর যৌবনের মাঝামাঝি সময়ে নানা শারীরিক মানসিক পরিবর্তন, প্রস্তুতির জন্য বিশাল এক সিলেবাস শেষ করার চাপ,বাবা-মার আশাভরা কাতর চাহনি, প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজনদের আড়চোখ, সমালোচনা, নিজের ও এক অনিশ্চয়তা, ভয়,দুশ্চিন্তা, পরিবারে আর্থিক সমস্যা থাকলে সেটার কষ্ট সব মিলিয়ে বেশ একটা প্রেশারের মধ্য দিয়ে যেতে হয় ভর্তি পরীক্ষার্থীদের।

(৭) আমার ভর্তিযুদ্ধের প্রথম দিন

আমার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার দিনটা ছিল শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর,২০২৫। পরীক্ষা শুরুর সময় বরাবরের মতোই সকাল ১০ টা। ভোর থেকেই আমার রিভিশন পর্ব চলছে। সব পড়া এটুকু সময়ে দেখা সম্ভব না বলে শুধু ইমপোর্ট্যান্ট টপিক গুলো চোখ বুলিয়ে নিচ্ছিলাম। তবুও যেন দেখে শেষ হয় না। বাবা মাও সকাল থেকেই প্রস্তুতি আর টেনশনের মধ্যে ছিল। দুজন‌ই যাবে আমার সাথে।মা রুটি আর ডিম ভাজা আমার পড়ার টেবিলে দিয়ে গেল।

কেন জানি খাওয়ার রুচিও হচ্ছিলো না তবু আমি একটু একটু করে রুটি ছিঁড়ে মুখে ভরছি আর ব‌ইয়ের পাতা উল্টাছি। ছোট ভাইটা গ্ৰামে গিয়েছে। ও থাকলে নিশ্চয়ই এতখনে চোখ রাঙ্গিয়ে বলতো “ওরে! তোর এত্ত বড় পরীক্ষা ঠিকমত সব রিভিশন দে।” আসলেই সরকারি মেডিকেল ডেন্টাল মিলে টোটাল ৫৬৪৫ আসনের বিপরীতে পরীক্ষা দিবে প্রায় এক লাখ ২১ হাজার।


যদিও এদের মধ্যে পিওর মেডিকেল এসপিরেন্ট ২০/২৫ হাজার মতো হবে। খাওয়া শেষ হলে বাবা মাসহ বাসার নিচ থেকে সিএনজিতে করে র‌ওনা দেই। হাতিরঝিল দিয়ে যাচ্ছি। আমার একপাশে বাবা অন্যপাশে মা বসা। আমার হাতে অনুশীলনীর ছোট ব‌ইটা। রাস্তায় দেখি আজ পরীক্ষার্থীই বেশি। কেউ প্রাইভেট কার-এ ,কেউ সিএনজি, কেউ মোটরসাইকেল-এ। সবার হাতে একটা করে ট্রান্সপারেন্ট ফাইল।

আমার সেন্টার ছিল ইডেন মহিলা কলেজে। সিএনজি কলেজের গেট পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারলো না, কেননা রাস্তায় প্রচুর ভিড়। অভিভাবক পরীক্ষার্থী মিলে খুব হৈচৈ পূর্ণ অবস্থা। ফুটপাতের উপর দাঁড়িয়ে আমি শেষ রিভিশন দিচ্ছিলাম। মনে হচ্ছে যা দেখছি সব‌ই নতুন। এরপর গেট খুললে ফাইল হাতে একা ভেতরে চলে যাই। ভিড়ের মধ্যে গরমে সোয়েটারটা আম্মুর হাতে রেখেছিলাম সেটা আর নিতে মনে নেই। ভেতরে যে এত ঠান্ডা কে জানত!

লাইন ধরে সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠলাম। বিশাল একটা হল রুমে প্রায় আড়াইশো পরীক্ষার্থী এবং কাকতালীয়ভাবে সিট প্ল্যানিং শুরু হয় আমাকে দিয়েই। আমার পাশে একটা ছেলে বসা সে তো ভয়ে রীতিমতো কাঁপছিল। আমিও চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে ছিলাম। সত্যিই এই এক ঘন্টা পনের মিনিট এর পরীক্ষার পর কেউ নামের পাশে ডাক্তার বসানোর সুযোগ পাবে আর কেউ পাবে না। একটা পরীক্ষা জীবনের মোড় কীভাবে ঘুরিয়ে দিতে পারে তা যদি তখন উপলব্ধি করতে পারতাম!

ওএমআর সিটের প্রত্যেকটা ঘরে দাগ দেওয়া যেন জীবনের উপর দাগ দেওয়া। একটু ভুল হলেই শেষ। ঘন্টা পড়ার সাথে সাথে প্রশ্ন হাতে পেলাম। একদিকে শীতে কাঁপছি অন্যদিকে এত ছোট লেখা চোখে ঠিকমতো দেখতেই পাচ্ছি না। আমি পড়ে এসেছি বলে প্রশ্ন সহজ লাগছে নাকি আসলেই প্রশ্ন সহজ করা হয়েছে তাও বুঝতে পারছি না। অল্প সময়ে এত পড়া পড়ে গিয়েছিলাম যে এমসিকিউ এর অপশন গুলো নিয়ে বেশ কনফিউশন লেগে গিয়েছিল আমার। তার‌ উপর এত ছোট লেখা দেখতেও অসুবিধে হচ্ছিলো বেশ।

নেগেটিভ মার্কিং এর ভয়ে সেমি কনফিউশন হ‌ওয়া প্রশ্নগুলো আর দাগালাম না। পরীক্ষা শেষ হ‌ওয়ার পরপর‌ই পরিদর্শক স্যার, মিসরা প্রশ্ন আর ওএমআর গোনার জন্য সময় নিলেন। আমি সিটে বসা অবস্থায় পিছনে তাকিয়ে দেখছিলাম কেউ ক্লান্ত হয়ে হেড ডাউন করে আছে যেন সারা বছরের পড়াশোনার শ্রম এক পরীক্ষায় ঢেলে দিয়েছে, কেউ হতাশ চোখে দেয়ালে  তাকিয়ে পাথর হয়ে আছে, কেউ প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করছে এইসব।

পরিদর্শকরা চলে যেতেই লাইন ধরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামলাম। প্রচন্ড ভিড় ঠেলে মেইন গেট থেকে বেরিয়ে বাম দিকে আব্বু আম্মু কে খুঁজতে লাগলাম । আব্বু একটু এগিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল তাই প্রথমে পেয়ে গেলাম তাকে। আমার বান্ধবী মুনতাকাও এসেছিল পরীক্ষা দিতে তার সাথেও দেখা হয়ে গেল রাস্তায়। সে আমাকে নিয়ে খুব‌ই উত্তেজিত ছিলো। পরীক্ষা কেমন হয়েছে শুনে আমাকে আশ্বাস দিতে লাগলো, “হয়ে যাবে তোর ভালো একটা মেডিকেলে চিন্তা করিস না।”  রাস্তায় প্রচুর মানুষ থাকায় যানবাহন‌ও নেই। আমরা তিনজন সামনের দিকে হাঁটতে লাগলাম।মাঝে আব্বু ডাবের পানি কিনে খাওয়ালো। ফেরার পথে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে দিয়ে যাবার সময় করুণ চোখে তাকাচ্ছিলাম আমি।

(৮) আমি ব্যর্থ হলে যেন সবার ক্ষতি করলাম

বাসায় এসে উত্তর মেলালাম। হিসাব করলাম আমার নাম্বার কাট মার্ক এর আশেপাশে। আমিসহ বাসার  সবার বেশ দুশ্চিন্তা শুরু হলো। আমার অবস্থা আসলেই হ‌ওয়া আর না হ‌ওয়ার মাঝামাঝি। কিছু পারা প্রশ্ন নেগেটিভ মার্কিং এর ভয়ে না দাগিয়ে আসায় আফসোস কাটছিল না আমার। পরদিন ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের পরীক্ষা ছিল। সেটা কোনো প্রিপারেশন ছাড়াই দিলাম। এর পরদিন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশিত হবার কথা।

সকাল থেকে অপেক্ষা করছি তো করছি। উত্তেজনায় দুপুরের ভাতটা কোনোরকমে খেলাম। সন্ধ্যার দিকে রেজাল্ট প্রকাশিত হয়। চার মার্কের জন্য আমি মেডিকেলে চান্স মিস করি। অ্যালোটেড কলেজের ঘরটা যখন ফাঁকা দেখলাম তখন মনে হচ্ছিলো দেহে প্রাণ নেই। ধাক্কাটা প্রথমে সামাল দিয়ে নিজেকে শক্ত করতে পারলেও আব্বু-আম্মু বেশ আহত হয়। তখন ছোটভাই গ্রামে থাকায় আমার কষ্ট শেয়ার করার মতো কেউ ছিল না আর  আব্বু আম্মুর মনোযোগটা ছিল পুরো আমার উপর। পরবর্তী এক সপ্তাহ হতাশা এবং মানসিক যন্ত্রণাতেই কাটলো।

(৯) ভর্তি যুদ্ধের বাকি দিনগুলো

ভার্সিটির পরীক্ষাগুলোও শুরু হয়ে গিয়েছিল ততদিনে। এক দুইদিন পর পর বা প্রতিদিনই কোনো না কোনো ভার্সিটির পরীক্ষা থাকে। এমন‌ও হয়েছে দুই তিনটা ভার্সিটির পরীক্ষা এক‌ই দিনে পড়ে গেছে। তার উপর প্রত্যেকটা ভার্সিটির প্রশ্নের ধরণ, মানবন্টন ভিন্ন। আমার যেসব ফ্রেন্ড সবগুলো ভার্সিটির ফর্ম তুলেছিল তাদের তো পর পর পরীক্ষা দিতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা। একেকদিন একেক জায়গায় পরীক্ষা থাকে।

ভর্তি ফর্ম গুলোর সর্বনিম্ন মূল্য এক হাজার টাকা। দূর থেকে আসলে অভিভাবকসহ পরীক্ষার্থীর থাকা, খাওয়া,যাতায়াত খরচ তো রয়েছেই। অনেককেই দেখেছি এডমিশনের কোচিং করার জন্য মফস্বল থেকে ঢাকায় আসে। ফ্যামিলি সহ কয়েকমাস বাসা ভাড়া নেয় বা একা হলে মেসে থাকে। যদিও দেশের সব জায়গাতেই কোচিং গুলোর শাখা আছে সবগুলোর সার্ভিস প্রায় একই। তবুও তাদের কাছে ঢাকা মানেই স্পেশাল কিছু। একদিন পরীক্ষা দিয়ে বের হবার সময় ভিড়ের এরকম একটা মেয়ের সাথে পরিচয় হয়েছিল। বেচারী খুলনা থেকে ঢাকা এসেছে কোচিং করতে আর এডমিশন দিতে।

(১০) আমার ভার্সিটি মাইগ্ৰেশন ও ভর্তি

একপর্যায়ে চট্টগ্ৰাম ইউনিভার্সিটি আর কৃষিগুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় টিকে গেলাম। কয়েকমাস চর্চা না থাকায় প্রশ্নের ম্যাথ পার্টটা আমার ভালো হয়নি। ফলে মেরিটে আমার সিরিয়াল ও হলো একটু পিছনে। সাধারণত কৃষির পরীক্ষা এপ্রিলে হয় কিন্তু আমাদের সময় জানুয়ারিতেই হয়ে গেল। আগে হয়ে ভালোই হয়েছে চান্স পাওয়ায় হতাশা টাও একটু কমলো। কৃষি গুচ্ছ তে সারাদেশে মোট নয়টা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। সেগুলোর সবগুলোতে পড়ার সুযোগ সুবিধা সমান নয়। নির্দিষ্ট ডেট এ ভার্সিটি আর সাবজেক্ট চয়েস দিলাম।

কৃষিতে প্রথমেই ভালো সাবজেক্টসহ ভালো ভার্সিটি আসে না। তবে যাদের মেরিট একদম শুরুতে তারা প্রথমেই ভালো পেয়ে যায়। বাকিদের ক্ষেত্রে আস্তে আস্তে আসন ফাঁকা হ‌ওয়া সাপেক্ষে কয়েকবার মাইগ্ৰেশন হয়ে ভালোর দিকে যায়। সেক্ষেত্রে চয়েস লিস্ট‌ও সেভাবে বানিয়ে দিতে হবে। আমার ক্ষেত্রে প্রথমে এলো এগ্ৰিকালচার ইন্জিনিয়ারিং, খুলনা। মনটাই খারাপ হয়ে গেল। এসব ইন্জিনিয়ারিং পড়াশোনায় আমার বিন্দুমাত্র আগ্ৰহ নেই। পরের মাইগ্ৰেশনের অপেক্ষায় থাকলাম। এরপর এলো ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন( ডিভিএম,) সিলেট।

একটু ভালোলাগা কাজ করলো। এরপর উপরের চয়েসে সবগুলোই‌ ডিভিএম দেয়া ছিলো।তাই ভার্সিটি চেন্জ হলেও আমি গরুর ডাক্তার হচ্ছি এটা সিওর। পরের দুই মাইগ্ৰেশনেও আমার সিলেট ডিভিএম‌ই এলো। ভর্তির জন্য ফ্যামিলিসহ চলে গেলাম সিলেট। সিলেট ভার্সিটি টা বেশ ছোট তবে সুন্দর আছে। মেইন গেটের বিপরীতে একটা মাঝারি মানের টিলা, ভালোই লাগে দেখতে। অডিটোরিয়ামের সামনের পুকুরে অনেকগুলো লাল পদ্ম ফুটে  থাকে।সেখানে ভর্তি হলাম এরপর ঘুরে দেখলাম সিলেটের জাফলং, মায়াবী ঝর্ণা, চা বাগান,সাদা পাথর, বড় বড় পাহাড়, যদিও পাহাড় গুলোর বেশিরভাগ‌ই ইন্ডিয়ার দখলে।

এত বড় গম্ভীর পাহাড় গুলোর বুক চিরে শীতল পানির ঝর্ণা দেখে আসলেই ভাবনা জন্মায়। হযরত শাহজালাল (রা.) -এঁর পবিত্র মাজার শরীফও পরিদর্শন করলাম। সিলেটে দুদিন কাটিয়ে ঢাকায় ফিরলাম। এরপরের একটা বড় মাইগ্রেশন হলো। সেটার রেজাল্ট দেখে আমি একেবারে হতবাক। আমার ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন এন্ড এনিম্যাল হাজবেন্ড্রী এসেছে, যেটা আমি আমার চয়েস লিস্টে ১ নম্বরে  রেখেছিলাম। সিলেটে যেসব কাগজ পত্র জমা দিয়েছিলাম সেগুলো ভার্সিটি নিজ দায়িত্বে ট্রান্সফার করে নিবে। আর বাকৃবির থেকে সিকৃবির ভর্তি ফি বেশি হ‌ওয়ায় অতিরিক্ত যে টাকা পেমেন্ট করছিলাম সেটাও পরবর্তীতে আমার স্টুডেন্ট একাউন্টে পাঠিয়ে দেয়া হবে। তাই আপাতত একটু চাপ মুক্ত হ‌ওয়া গেল।

(১১) যে ভর্তি হতে পারলো না সে কি অপরাধী?

আগেই বলেছি পরীক্ষার্থী অনেক কিন্তু সিট সংখ্যা সীমিত।তাই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করে কিছুসংখ্যক ছেলেমেয়ে টিকে গেলেও বেশিরভাগই না টেকার দলে থেকে যায়। এডমিশনে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নম্বরের ব্যবধান খুব কম থাকে। যারা চান্স পায় না তাদের বেশির ভাগই অল্পের জন্য মিস করে।হয়তো একটু যত্ন, গাইডলাইন, সুযোগ বা সিরিয়াসনেসের অভাবে। যারা চান্স পায় তারা এসকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করেই পায় বলে তারা প্রশংসা পাবার যোগ্য‌ও বটে।

পরবর্তীতে তাদের নিয়ে নানা রকম উদযাপন চলতে থাকে। সমাজেও তারা ভালোভাবে মূল্যায়িত হয় । কিন্তু যারা চান্স পেল না তাদের পরবর্তী সময়টা কেমন হয়? একে তো না পাওয়ার তীব্র কষ্ট,আফসোস আছেই তার উপর চারপাশের মানুষজনের নানারকম চারপাশের মানুষের তিরস্কার ও ভর্ত্সনামূলক কথা শোনা। ফলে তাদের অন্যান্য যে প্রতিভা ছিল সেগুলো ও অনেক ক্ষেত্রে বিকশিত হবার সুযোগ পায় না।

(১২)ডার‌উইনের Survival of the fittest আর আমাদের ভর্তি যুদ্ধ

জীবের নিজের অস্তিত্বের জন্য যেমন লড়াই করতে হয় অর্থাৎ তার খাদ্য, আশ্রয়,ভালো সঙ্গী পাবার জন্য যেমন প্রতিযোগিতা করে পরিবেশে টিকে থাকে, আমাদের ভর্তি যুদ্ধ ও তাই। একটা উন্নত পরিবেশ, সুন্দর জীবনের আশায় ভর্তি যুদ্ধে টিকে থাকতে হয়। এডমিশনের অভিজ্ঞতা নানা বিষয়ের সমন্বয়ে একটা মিশ্র অভিজ্ঞতা। কাঙ্খিত বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলে সেই অভিজ্ঞতা পরম আনন্দের আর না পেলে তা হয় চরম দুঃখ এবং হতাশার।

আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা তাই নিজেদের পছন্দমতো সাবজেক্ট নিয়ে পড়ার তেমন সুযোগও পায় না বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে সাবজেক্ট তাকে দেয়া হয়  বাধ্য হয়ে সেটাই পড়তে হয় তাকে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমন অনেক সাবজেক্ট আছে যেগুলোর জন্য পরবর্তীতে দেশে চাকরির কোনো ক্ষেত্র নেই। চান্স পাবার পরে বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল গুলোতে শিক্ষার্থীদের হলে আবাসন সংকটেও ভুগতে হয়।

তবে যারা একটু পয়সাওয়ালা তারা মোটামুটি টাকা খরচ করে প্রাইভেট ভার্সিটিগুলোতে পছন্দমতো সাবজেক্ট নিয়ে পড়তে পারে। তাদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। ভর্তি পরীক্ষা টাকে একটা অসম প্রতিযোগিতা লাগে আমার কাছে। যেন শুরুতেই  আমরা শিখে যাই কিভাবে একজনকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে নিজের স্থান পেতে হয়। এর পরিবর্তে এমন কোনো ব্যবস্থা থাকলে, যাতে সবাই সমান সুযোগ পায়, তাহলে ব্যাপারটা কেমন হতো? বা একদিনের একটা ভর্তি যুদ্ধে টিকে যাওয়া না যাওয়ার উপর নির্ভর করেই কি কোনো শিক্ষার্থী কে পুরোপুরি যাচাই করা যায়?

সংক্ষেপে এই ছিলো আমার এডমিশন যাত্রা। সকল বিষয় হয়তো তুলে ধরতে পারিনি, কিশোরী মনে যা ভাবনা এসেছিলো তাই লিখেছি । আমার এ লেখার মাধ্যমে কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।এডমিশন যাত্রায় আমার এ পর্যন্ত আসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই আমার পরিবারের সদস্যদের, প্রিয় জুঁই খালামণি এবং আমার প্রিয় বান্ধবীদের কেও। যারা আমাকে নানাভাবে সাহায্য করেছে। সকলের প্রতি ভালোবাসা র‌ইলো।

১ম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আরও লেখা

পরীক্ষা

'পরীক্ষা' শব্দটি নিয়ে একেক জনের দৃষ্টি একেক রকম। কারও কাছে এটা তার উন্নতি দেখার একটা মাধ্যম, কারও কাছে এটা দৈত্য বা দুঃস্বপ্নের মতো ভয়ংকর...
নয়া পথিক
পারমার্থিক

ভর্তিযুদ্ধ! হেরে গেলাম কি? (পর্ব-১)

মাত্র কয়েকটা সিটের জন্য বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে চরম রকমের প্রতিযোগিতা আর সেটাকে কেন্দ্র করে নানারকম ব্যবসা, অভিভাবকদের উত্তেজনা সহ প্রতি বছর আমাদের দেশে...
নয়া পথিক
পারমার্থিক

ইচ্ছে করে

ইচ্ছে করে ইট পাথরের দেয়াল ছেড়ে চলে যাই দূর বনে, যেখানে খোলা আকাশের নিচে নদী বয়ে চলে আপন মনে। ইচ্ছে করে পাখি হয়ে যাই...
নয়া পথিক
পারমার্থিক

মন

অশান্ত মন কিছু তো মানে না, রকেটের মতো শুধু ছোটে সারাক্ষণ। কখনো মন কেঁদে ওঠে কখনো বা হাসে, কখনো‌ বা ডানা মেলে উড়ে আকাশে। গোপনে থেকে মন কত কথা বলে, চিরকাল সে তবু অধরাই থাকে।
নয়া পথিক
পারমার্থিক
1
previous arrow
next arrow
a
previous arrow
next arrow