অবশেষে প্রতিষ্ঠিত হলো পারমার্থিক স্কুল – ০১

পারমার্থিক

জয়গুরু

শুরুর সময়টা ছিল ২০১১ খ্রি:, তখন গুরুজী  মাঝে মাঝে তেঁতুলিয়া তার নিজ পিতৃগৃহে আসতেন । আর আমরা সে খবর পেলে সকলে মিলে দেখা করার জন্য যেতাম । তেমনি একদিন তিনি এসেছিলেন খুব সম্ভবত এপ্রিল মাসে। আমি গিয়েছিলাম তার সাথে দেখা করতে। আরও অনেকে ছিলেন। তাঁর একজন বন্ধুও ছিলেন সেখানে। আলাপের এক পর্যায়ে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের কথা বলছিলেন তাঁর বন্ধুর সাথে। সেখানে কার্যক্রম কেমন হবে সে বিষয়ে তেমন কোন কথা না বললেও তিনি বলছিলেন কোথায় জায়গা পাবো, কিভাবে কিনবো?

সেদিনের কথা যেন আজও চোখে ভাসে। তার পরনে ঝকঝকে সাদা একটি ফতুয়া। সেটির কলারে এবং সামনের ২ পকেটে ছিল চিকন করে এম্ব্রয়ডারি কাজ করা খয়েরি রং এর সুতা। তার মাথার চুলের অগ্রভাগ কালো হলেও গোড়ার দিক যেন সাদা সেটা মাঝে মাঝে উকি দিচ্ছিল। সে কম্বিনেশন ছিল অসাধারন মনোমুগ্ধকর। সেদিন কোন এক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে খুব বেশি আলাপ হয়নি তবে, তার বন্ধু কথা দিয়েছিলেন যে, তিনি ভাল কোন জমির সন্ধান পেলে জানাবেন। তখন কোন প্রতিষ্ঠান বা স্কুল বিষয়টি সেভাবে আমার মাথায় আসেনি এবং আমি খুব একটা বুঝতেও পারিনি ।

এরপর কথাগুলো মাঝে মাঝে আলোচনা হতেই থাকত। কেটে যায় অনেকগুলো দিন। ২০১২ সালের জুন মাসের একবার তিনি শালঘরিয়া(আমাদের বাড়ি) এসেছিলেন। সে সময় মোখলেস চাচা কিছু কাগজপত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে হাজির হন। বিষয়গুলো তখন আমার কাছে স্বপ্নের মত লাগত এবং আনন্দ হতো। আসলে আমি তখন নিজের মত করে স্বপ্নে কোন প্রতিষ্ঠানের ছবি আঁকছিলাম আর সেখানে আমার পছন্দের রং দিয়ে সব কিছু রাঙ্গিয়ে দিচ্ছিলাম। সত্যি যদি আমার কল্পনার সেই স্কুল বাস্তবায়িত হত যেটা আমি তাঁর মুখ থেকে শুনেছিলাম। তবে সেই স্কুল বা প্রতিষ্ঠানের নামেই সারাবিশ্ব বাংলাদেশকে চিনত। এমন কথা বলা বোধহয় দুঃসাহসেরই সামিল ।

আর এমন প্রতিষ্ঠান বোধহয় কল্পনাতেই সম্ভব , বাস্তবে কোনদিন হবে কিনা তা জানিনা তবে, সেই কল্পনার প্রতিষ্ঠানের ব্যাখ্যা করলেও কয়েক হাজার পৃষ্ঠা লেখা যায়। তবে এমন একটি প্রতিষ্ঠান কোনদিন হবে সেই দাবি সমাজের তথা আত্মিক উন্নতি করতে যারা আগ্রহী, যারা ইতিমধ্যে করেছেন, যারা সেই পথে হাঁটছেন, যাদের ইচ্ছা আছে, সেইসব উত্তরসূরির কাছে। যেন জীবনে যতবার ফিরে আসি না কেন সেইখানে যেন হাশর হয়।

যাইহোক মূল কথায়  আসি। মোখলেস চাচা যখন কাগজপত্রগুলো গুরুজীর হাতে দিলেন তিনি, খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছিলেন। আমি প্রথমবার যখন গুরুজীকে দেখি ,তখন থেকেই দেখি তিনি চশমা পরেন। তো স্বাভাবত সেদিনও তিনি চশমা পরেছিলেন এবং কাগজগুলো দেখার সময় বামহাত দিয়ে চশমাটা একটু ঠিক করে নিলেন। এরপর যখন চাচার সাথে কাগজপত্র নিয়ে কথা বলছিলেন তাকে বেশ খুশি খুশি লাগছিল। এরপর জমি কিভাবে কিনতে পারবো সে বিষয়ে কথা হচ্ছিলো।

টাকা কীভাবে আসবে –সেখানে কে্‌উ একজন বলেছিলেন যে, গুরুজী যদি সেখানে যায় তবে দাম অনেক বেশি চাইবে । কারণ তাকে অনেক বড় মাপের অফিসার গোছের লোক মনে হয়, এবং তার অনেক অর্থবিত্ত আছে সেটাও মনে হয়। তাই তিনি যদি জমি দেখতে যান তাহলে যেন কাউকে না বলে শুধু দেখে আসেন এমন প্রস্তাব দেয়া হলো। তখন তিনি হাসতে হাসতে বললেন, কেন লুঙ্গি পরে খালি পায়ে ঘাড়ে একটা গামছা নিয়ে গেলে হবে না! সেই কথা শুনে সেখানে উপস্থিত সবাই খুব হাসাহাসি করলেন। এই সমস্যার সম্মুখীন তিনি এর আগেও হয়েছেন সে কথাও তিনি বললেন।

পরে আলাপ হলো সে জমিটা যদি হয় তবে আমাদের অর্থের যোগান আসবে কোথা থেকে? সাথে সাথে অনেকে বলে ফেলল আমি ১০, ১৫, ৫ হাজার করে দিবে। এক ভাই তো সেখানে কথা দিয়ে দিলেন তার কিছু জমি আছে যেটা বন্ধক দিয়ে তিনি ৫০ হাজার টাকা দিবেন! এভাবেই সেদিন সবাই খুব আনন্দের সাথে আলোচনায় আংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এর কিছুদিন পরেই জানতে পারি যে ঐ জমি কোনো আদিবাসী পরিবারের, এবং সেগুলোর কাগজপত্র সব ঠিক নয়। পরবর্তীতে আর সেই জমির কথা এগোলনা। আবার সবকিছু থেমে গেল।

তবে তিনি বলতেন, প্রতিষ্ঠানটি যেন হয় নদীর কাছাকাছি কোথাও। যেন সেখানে সাতার কাটা যায়। তখন একবারও তিনি স্কুল কথাটি বলেননি । আর যে ভাইটি জমি বন্ধক রেখে টাকা দিতে চাইলেন তিনি জানিয়ে গেলেন যে,তার স্ত্রীকে না জানিয়েই তিনি কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার স্ত্রী এ বিষয়ে রাজি নয়। তাই তিনি এত টাকা দিতে পারবেন না।

সৈয়দপুর

০৮/০৪/২০২৬ খ্রি:          

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আরও লেখা

পারমার্থিক অনলাইন সাধুসঙ্গ থেকে ওয়েবসাইটের যাত্রা

সময়টা ২০২০ সাল। কোভিডের আক্রমণে কেঁপে উঠেছিল পৃথিবীর সভ্যতা। স্থবির হয়ে পড়েছিল স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। এরই প্রেক্ষিতে এবং সরকারি বিধিনিষেধের কারণে গুরুজীর সঙ্গে আমাদের সম্মুখ সাক্ষাৎ...
পারমার্থিক স্কুল
পারমার্থিক
1
previous arrow
next arrow
a
previous arrow
next arrow